ময়মনসিংহের নান্দাইলে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর ৫০ জন ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠায় ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ডিলার নিয়োগের ফলাফল পরদিন বুধবার তা বাতিল করায় সরকারি কর্মকর্তাদের চরম দায়িত্ব অবহেলা সহ প্রশাসনের প্রতি সুশীল সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
নান্দাইল উপজেলা খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারমিনা সাত্তার ডিলার নিয়োগের ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানাগেছে, সম্প্রতি সময়ে নান্দাইল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ৫০ জন ডিলার নিয়োগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন পত্র জমা পড়ে ২৩২টি।
নিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারামিনা সাত্তার অত্র কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিলোয়ার হোসেন সদস্য সচিব করে সাত সদস্য কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ যাচাই-বাছাই করে মঙ্গলবার (৪ মার্চ) লটারীর মাধ্যমে ৫০ জন ডিলারের নামের তালিকা প্রকাশ হয়। তবে তালিকা প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।
লটারীর বিষয়টি নিয়ে সুশীল সমাজ সহ সাধারন জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। রাজগাতি ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগের আবেদনকারী মোস্তাফা নাদিম বলেন, কালিগঞ্জ বাজারে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলারের আতাউর রহমানের নাম প্রকাশ হলেও, ইউনিয়ন বিএনপি’র একটি অফিস ঘরকে তাঁর গোডাউন হিসাবে দেখানো হয়েছে এবং মিজানুর রহমান জানান, দক্ষিণ কয়রাটি বাজারের ডিলার ফারুক মিয়া তাঁর কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকলেও আত্মীয়ের বসতঘরকে গোডাউন হিসাবে দেখিয়েছেন।
এছাড়া মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা বাজারের নাম প্রকাশ হওয়া ডিলার আবুল কালাম তাঁর গোডাউন চুক্তিপত্রে মৃত ব্যক্তির নাম স্বাক্ষরে উল্লেখ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আবেদনকারী জানান, উক্ত ডিলার নিয়োগ প্রাপ্তির জন্য অনেকেই নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে ৬০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিয়েছেন। ফলে আবেদনকারীদের অনুপস্থিতিতে সুকৌশলে ৫০ ডিলারের নাম চূড়ান্ত করে মঙ্গলবার সকালে তা নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিলোয়ার হোসেন বলেন, অনিবার্য কারনবশত তা বাতিল করা হয়েছে, আবার লটারী দেওয়া হবে। তবে উৎকোচের বিষয়টি আমার জানা নেই। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র নিয়োগ কমিটির সভাপতি সারমিনা সাত্তার বলেন, কোন ধরনের সুপারিশ ব্যতিরেকে অধিক স্বচ্ছতার জন্য লটারী দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এরমধ্যেও যে কোন সমস্যা ছিল তা আমার জানা নেই।
বিষয়টি পরে জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ওই ফলাফল বাতিল করি এবং পুনরায় সকলের উপস্থিতিতে লটারীর মধ্যে নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।