এমন ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের উত্তর পেকুয়া এলাকায়।শরীফ ওই এলাকার মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।সাইফুল ইসলাম একজন আদম ব্যাবসায়ী এবং তার ছেলে শরীফ একজন আওয়ামী ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।এদিকে শরীফ সানের আরেকটি পরিচয় হলো সে,বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম শামসুর ভাতিজা।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, শরীফ মাহমুদের সাথে একটি মেয়ের কাবিন হয়।এরই মাঝখানে নানান জল্পনা-কল্পনা হয় এই বিয়েকে কেন্দ্র করে।মেয়ে পক্ষ শরীফের নিকট বিয়ে দিবেনা শুনে,শরীফের চাচা শামছু চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন লোকজন নিয়ে মেয়ে পক্ষকে অনুরোধ করেন বিয়েটা দেয়ার জন্য।কিন্তু মেয়ে পক্ষ কোনভাবেই রাজি না হলেও শেষ পর্যন্ত সকলের অনুরোধে রাজি হয়।পরে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়।
বিয়ের গায়ে হলুদ হয় মঙ্গলবার ১ এপ্রিল।বুধবার ২ এপ্রিল শরীফ সান বরযাত্রী নিয়ে যান কন্যার বাড়িতে।দারুণ সাজসজ্জা ছিল কন্যার বাড়ি।সাজানো ছিল সবকিছুই।কন্যা যাবে তার স্বামীর বাড়ি।কে জানত নিমিষেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে,হাঠাৎ ভেঙে যাবে কন্যার বাড়ির সকল স্বপ্ন।কে জানত বর তার নিজের বিয়ে ভাঙ্গার জন্য দারুণ এক প্ল্যান করে রেখেছে,প্ল্যান করে সে আবার এসেছে বিয়ে করার জন্য।হ্যা,এমন ঘটনায় ঘটেছে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের উত্তর পেকুয়া এলাকায়।ঘটনা শুনে সবাই যেন কেঁদে ভাসিয়ে দিয়েছে কন্যার এলাকার মানুষ,আত্মীয়স্বজন সহ সকলেই।থমথমে এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে গেল কন্যার বাড়িতে।
স্থানীয়দের মতে,নতুন বর শরীফ মাহমুদ একদিক দিয়ে বিয়ে করার জন্য এসেছে,অন্যদিকে তার দুই বন্ধুকে প্রশাসনের নিকট পাঠিয়েছে বিয়ে ভা ঙ্গা র জন্য।তার দুই বন্ধু প্রশাসনের নিকট বলেছে,যে মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে তার বয়স কম,বিয়েটা ভে ঙে দেন,এটা আইন অনুযায়ী অবৈধ,বাল্যবিবাহ।এমন ঘটনা নিমিষেই ছড়িয়ে পড়লে কন্যার এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বরকে গণধোলাই দিয়েছে,পরে স্থানীয় মাতাব্বররা বসে বরকে আর্থিক জরিমানা করেন,পরে যাওয়ার সময় জনতা বরের বিয়ের শেরওয়ানিও খুলে রেখে দিয়েছে এবং সেটা পুড়িয়েও ফেলেছে।ক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে বর পক্ষের অনেকেই নিরবে পালিয়েও গিয়েছিল বলে জানা যায়।
এমন ঘটনা শুধু সিনেমাতেই মানায়,বাস্তবে না।আর সেই সিনেমাকেই হার মানিয়ে বাস্তবে রুপ ধারন করিয়া দিল ছাত্রলীগের এই নেতা শরীফ মাহমুদ।পরে কনের বাড়িতে থেকে মুচলেকা দিয়ে চলে যায় বরপক্ষ।
স্থানীয়রা জানায়,এর আগেও একাধিক মেয়ের সাথে শরীফ মাহমুদ এইরকম অপকর্ম করেছে।কিন্তু তার পরিবারের প্রভাবের কারনে এতদিন ভয়ে কেউ মুখ খুলেনি।
এদিকে অভিযুক্ত নব বর শরীফ মাহমুদ তার ভিডিও বার্তায় বলেন,এটি তৃতীয় পক্ষের একটি চক্রান্ত।আমি এই বিষয়ে কোন কিছুই জানিনা।
এমন পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ।এমন পরিকল্পিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কন্যার এলাকায় নিথর এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে,ভাষা হারিয়ে ফেলেছে প্রকৃতি,আকাশে বাতাসে কালোমেঘ।হয়তো বাংলাদেশে এমন ঘটনা যেন এই প্রথমবারের মতো ঘটে গেলো,যা এতদিন শুধু সিনেমাতেই হয়েছে।
জানা যায়,এ বিষয়ে কোন পক্ষ কোথাও অভিযোগ করেনি।